মোঃ রিয়াজুল হকের ভাবনাঃ
ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন, অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, গ্যারেজ নিবন্ধন এবং চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেছেন মোঃ রিয়াজুল হক। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট সড়কে অটোরিকশা চলাচল সীমিত করা, গ্যারেজের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা, নির্ধারিত হারে কর আদায় এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন।
রিয়াজুল হকের প্রস্তাব অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীর যানজটপ্রবণ সড়ক ও মোড়গুলোতে অটোরিকশা চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গাবতলী থেকে এলিফ্যান্ট রোড, শাহবাগ ও প্রেস ক্লাবমুখী সড়কসহ কাওরান বাজার, তেজগাঁও, মহাখালী, তাঁতীবাজার, নয়াবাজার, বাবুবাজার ও পোস্তগোলা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া কাওরান বাজার থেকে কলাবাগান এবং সায়েদাবাদ থেকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। পুরান ঢাকার লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ছয় আসনের যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং বিভিন্ন স্থানে সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অটোরিকশার স্ট্যান্ড বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছেন রিয়াজুল হক।
গ্যারেজ নিবন্ধন ও কর আদায়ের প্রস্তাব
অটোরিকশা ও ইজিবাইকের গ্যারেজগুলোকে সরকারি লাইসেন্সের আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রস্তাবে ছোট গ্যারেজের জন্য ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে মাঝারি ও বড় গ্যারেজের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত লাইসেন্স ফি নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অটোরিকশা ও ইজিবাইকের ধরন অনুযায়ী কর আদায় এবং গ্যারেজ মালিকদের মাধ্যমে চালকদের লাইসেন্স ও যানবাহনের করসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাবও রয়েছে।
প্রস্তাবিত তালিকায় দুই আসনের অটোরিকশা ও বউ গাড়ির জন্য ৪৫০ টাকা এবং ইজিবাইকের জন্য ৫৫০ টাকা জমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া চিকন চাকার অটোরিকশার জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা, মোটা চাকার অটোরিকশার জন্য ২ হাজার টাকা, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ১ হাজার ৬০ টাকা এবং মালবাহী অটোরিকশার জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এসব ফি কোন সময়ের জন্য এবং কোন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আদায় করা হবে, তা নীতিমালায় স্পষ্ট করার প্রয়োজন রয়েছে।
চালকদের হয়রানি বন্ধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি
রিয়াজুল হক অভিযোগ করেছেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন ট্রাফিক মোড় থেকে অটোরিকশা আটক উৎকোচ আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয় (প্রমানিত নয়)। চানখাঁরপুল, বকশীবাজার, নীলক্ষেত, সায়েন্স ল্যাব, গুলিস্তান ও ফকিরাপুলসহ বিভিন্ন এলাকার কথা উল্লেখ করে তিনি এ ধরনের হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।একই সঙ্গে চালকদের অজ্ঞান করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে তিনি এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, জীবিকার তাগিদে গ্রামাঞ্চল থেকে ঢাকায় আসা সাধারণ চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল সিগন্যাল স্থাপনের প্রস্তাব
যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অপ্রয়োজনীয় ব্যারিকেড না রাখা, ট্রাফিক সিগন্যাল কার্যকর করা এবং রং সাইডে যানবাহন চলাচল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন রিয়াজুল হক। পাশাপাশি মোহাম্মদপুর, নীলক্ষেত, গুলিস্তান ও কাকরাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনের কথা বলেছেন তিনি।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিটি থানাভিত্তিক এলাকায় কতটি অটোরিকশার গ্যারেজ রয়েছে, কতটি যানবাহন চলাচল করছে এবং কতজন চালক রয়েছেন—তার সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইনে প্রকাশের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। এ কাজে সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করার কথাও উল্লেখ করেছেন।এ ছাড়া অনুমোদনহীন ওয়ার্কশপে নতুন অটোরিকশা তৈরি নিয়ন্ত্রণ, গ্যারেজের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ এবং সারা দেশে অটোরিকশার গ্যারেজগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন রিয়াজুল হক।
তিনি মনে করেন, অটোরিকশা চলাচল, গ্যারেজ ব্যবস্থাপনা, কর আদায় এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগে সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ ও চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে।
উল্লেখ্য,লেখাটি মোঃ রিয়াজুল হকের নিজস্ব প্রস্তাব ও ভাবনা হিসেবে প্রকাশ করা হলো।


