রুপসীবাংলা৭১ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক : বয়সভেদে প্রোটিনের চাহিদা ভিন্ন হয়। পঁচিশ বছর বয়সে শরীর যে ভাবে প্রোটিন শোষণ করে পেশি গঠন করতে পারে, সেই একই পরিমাণ পেশি গঠনের জন্য চল্লিশের পর শরীরের আরও বেশি প্রোটিনের প্রয়োজন হয়। তাই জানতে হবে ৩৫-৪০ বছর বয়সের পর শরীরের কী পরিমাণ প্রোটিন প্রয়োজন?
ভারতীয় পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতি দিন প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ০.৮ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা প্রয়োজন। তবে ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে প্রতি দিন তাঁদের শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১.৬ থেকে ২.২ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত। যারা অতিরিক্ত শরীরচর্চা করেন তাদের শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য ২.২ গ্রামের কাছাকাছি প্রোটিন গ্রহণ না করলে শারীরিক সমস্যা বাড়বে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি খাবারের সঙ্গে যেন ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম প্রোটিন শরীরে পৌঁছোয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪০-এর পর শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
- শরীরে প্রোটিনের অভাব হলেই ক্লান্তি ঘিরে ধরে। পর্যাপ্ত ঘুমিয়ে, পরিমাণ মতো খেয়েও ক্লান্ত হয়ে পড়া স্বাভাবিক বিষয় নয়। সেক্ষেত্রে ধরে নেওয়া যেতে পারে প্রোটিনের অভাবেই এতটা ক্লান্ত লাগে, কোনো কাজে উৎসাহ পাওয়া যায় না।
- প্রোটিনের একটা বড় গুণ হলো দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভর্তি রাখা। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রোটিন শরীরে না গেলে ঘন ঘন খাবার খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। বার বার ক্ষুধা পেলে বুঝতে হবে, শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাব রয়েছে।
- ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য প্রোটিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিনের অভাব রক্তে শর্করার মাত্রায় স্ফীতি ঘটাতে পারে। ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য ডাল, রাজমা, মাছ, ডিম, বাদাম ইত্যাদি প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার রোজকার খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
- শুধু শরীর সুস্থ রাখতেই নয়, সৌন্দর্য ধরে রাখতেও প্রোটিন প্রয়োজন। পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাবে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। এমনকি, চুল পড়ার সমস্যার নেপথ্যেও থাকতে পারে প্রোটিনের অভাব।
- প্রোটিন ত্বকের ক্ষতস্থান দ্রুত সারাতে সাহায্য করে। তবে অনেক দিন ধরে কোনো ক্ষত যদি না শুকায়, সে ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া যেতে পারে, শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব রয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
রুপসীবাংলা৭১/এআর

