রুপসীবাংলা৭১ তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : মহাশূন্যে কোটি কোটি আলোকবর্ষজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ধূসর, বিশাল রেডিও খণ্ড—যেগুলোকে রেডিও রেলিক বলা হয়; দীর্ঘদিন ধরেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে ছিল এক রহস্য। গ্যালাক্সি ক্লাস্টার বা বৃহৎ নক্ষত্রগুচ্ছ যখন ভয়ংকর কিন্তু ধীর গতির সংঘর্ষে (slow but powerful collisions) লিপ্ত হয়, তখন যে বিশাল ধাক্কা-তরঙ্গ তৈরি হয়, সেখানেই জন্ম নেয় এই রেডিও রেলিক। কিন্তু কীভাবে ইলেকট্রন এত দ্রুতগতিতে ছুটে যায়, আর কেন রেডিও ও এক্স-রে তথ্য পরস্পরের সাথে মিলছিল না—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাচ্ছিল না।
জার্মানির লাইবনিজ ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স পটসডাম (AIP)-এর গবেষকেরা অবশেষে সেই রহস্যের সমাধান দিয়েছেন। তারা গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের সংঘর্ষকে সুক্ষ্মভাবে বোঝার জন্য উচ্চ-রেজোলিউশনের বহুস্তরীয় কম্পিউটার সিমুলেশন ব্যবহার করেন। এর মধ্যে ছিল বিশেষ ‘শক-টিউব’ সিমুলেশন—যা দিয়ে একটি ধাক্কা-তরঙ্গ কীভাবে গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের অস্থির ও অসম বহির্ভাগ ভেদ করে ছুটে যায়, তা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
গবেষণায় দেখা যায়, একটি বৃহৎ ক্লাস্টার আরেকটির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একটির ভর ছিল অন্যটির চেয়ে আড়াই গুণ বেশি। এই সংঘর্ষে তৈরি হয় প্রায় ৭ মিলিয়ন আলোকবর্ষ জুড়ে বিস্তৃত বিশাল ধাক্কা-তরঙ্গ। এই তরঙ্গ বাইরে এগোতে এগোতে ঠান্ডা গ্যাসের (cold gas) তৈরি ছোট ছোট ধাক্কা-তরঙ্গের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে প্লাজমার ভেতর ঘন স্তর তৈরি হয় এবং সেই স্তরের সঙ্গে গ্যাসের খণ্ডাংশের সংঘর্ষে তৈরি হয় তীব্র অস্থিরতা। এই অস্থিরতাই চৌম্বকক্ষেত্রকে শক্তিশালী করে, যা বাস্তব পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মিলে যায়।
এ কারণে রেডিও তরঙ্গ যে জায়গা থেকে বেশি তৈরি হয়, তা খুব ছোট ও শক্তিশালী অংশ থেকে আসে। কিন্তু এক্স-রে যন্ত্র পুরো ধাক্কা-তরঙ্গের গড় মান মাপায় সেখানে দুর্বল অংশও ধরা পড়ে। তাই রেডিও ও এক্স-রে তথ্য মিলছিল না।
AIP–এর বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বহুস্তরীয় সিমুলেশনই প্রথমবারের মতো রেডিও রেলিকের চৌম্বক, রেডিও ও এক্স–রে বৈশিষ্ট্যকে একসঙ্গে ব্যাখ্যা করেছে। আর এতে বহু বছরের ধাঁধার সমাধান মিলেছে। গবেষক জোসেফ হুইটিঙ্ঘাম বলেন, এই অগ্রগতি মহাবিশ্বের আরও অজানা রেডিও রহস্য উন্মোচনে তাদের অনুপ্রাণিত করেছে।
রুপসীবাংলা৭১

