নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শিক্ষকদের বিভিন্ন আন্দোলন বিষয়ে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের বিবৃতি। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতি আহুত বার্ষিক পরীক্ষার আগে আগামীকাল থেকে ক্লাস বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য দাবি আদায়ের কর্মসূচির প্রেক্ষিতে সারাদেশের শিক্ষার্থীর স্বার্থ রক্ষাকারী অভিভাবকদের সংগঠন অভিভাবক ঐক্য ফোরাম এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিয়াউল কবির দুলু আজ ৮ নভেম্বর এক বিবৃতিতে বলেন, বার্ষিক পরীক্ষা সামনে রেখে চলমান শিক্ষক আন্দোলনে শিক্ষা ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে। বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান ব্যাহত হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণের ধারাবাহিকতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে দাবি আদায়ের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তথ্যানুসারে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তৃতীয় প্রান্তিক শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের মাত্র ৬০–৬৫ শতাংশ পাঠই সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতে অগ্রগতি মাত্র ৫০–৫৫ শতাংশ। হাতে রয়েছে মাত্র ২০–২৩ কর্মদিবস, যা নির্ধারিত পাঠ্যসূচি শেষ করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।
অভিভাবক ঐক্য ফোরাম মনে করে, শিক্ষাক্রমে সৃষ্ট বিঘ্নের দায়ভার একপাক্ষিক নয়। শিক্ষক, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—সব পক্ষেরই দায়িত্ব রয়েছে পাঠদানের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষতি পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অনেক সময় ক্লাসে পুরো পাঠ শেষ না করেই লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে, যা শিক্ষার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমরা চাই, এবার সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হোক।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে সহকারী শিক্ষকদের ১৫ থেকে ১৩ তম গ্রেড প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ১১ তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব সরকারে পাঠানো হয়েছে, যা ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা পেশার মানুষের কাছ থেকে ক্লাস বর্জন বা আন্দোলন সত্যিই অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।
এছাড়া, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির অনেক শিক্ষার্থী এখনও সাবলীলভাবে রিডিং (Reading) করতে পারছে না, যা উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও পেশাগত দায়িত্ববোধের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে শ্রেণিকক্ষে আন্তরিক পাঠদান, শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের মাধ্যমে—দাবি-দাওয়ার মাধ্যমে নয়।
অতএব, অভিভাবক ঐক্য ফোরাম সরকার ও শিক্ষক সমাজ উভয়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী ও ইতিবাচক সমাধান নিশ্চিত করা হোক, যেন কোনো শিশুর শিক্ষা জীবন আন্দোলনের বলি না হয়।

