রুপসীবাংলা ৭১: ২০২৬ সালের ৮ থেকে ১০ অক্টোবর রাশিয়ার মস্কোতে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরাম’ অনুষ্ঠিত হয়। রাশিয়ান ফেডারেশনের সরকার, ডিজিটাল উন্নয়ন, যোগাযোগ ও গণমাধ্যম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এই ফোরামের আয়োজন করা হয়েছিল। এর আয়োজক বা পরিচালনাকারী সংস্থা ছিল ‘ন্যাশনাল প্রায়োরিটিস’ (National Priorities) এবং ‘সেন্টার ফর গ্লোবাল আইটি কো-অপারেশন’ (Center for Global IT Cooperation)। মস্কো সরকার এর ‘জেনারেল পার্টনার’ এবং পিএসবি ব্যাংক (PSB Bank) ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার’ হিসেবে যুক্ত ছিল।

রাশিয়ার বৃহত্তম আইটি ইভেন্ট ‘ডিজিটাল সলিউশনস’-এর অংশ হিসেবে গোর্কি পার্কের ‘মেচতা’ (Mechta) ভেন্যুতে এই ফোরামটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, প্রথম গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরামটি ২০২৫ সালের ৫-৬ জুন নিজনি নভগোরোদ শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। “যোগাযোগ, সংযোগ ও সৃজন” (Communicate. Connect. Create.)—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত ফোরামটির লক্ষ্য ছিল একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, আইটি প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সম্প্রদায়, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজ ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে গড়ে ওঠা যৌথ ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এটি সকল জাতির জন্য পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা ও সমান সুযোগের ভিত্তিতে ডিজিটাল সহযোগিতার বিষয়টিকে উৎসাহিত করেছে।
আয়োজকদের তথ্যমতে, তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে গোলটেবিল বৈঠক, বক্তৃতা, কর্মশালা ও উপস্থাপনা-সহ ৬০টিরও বেশি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১,৩০০-এরও বেশি অতিথি অংশ নেন, যাদের মধ্যে ১১১টি দেশের ৭৩০ জন বিশেষজ্ঞ ছিলেন। প্লেনারি সেশন ও প্যানেল আলোচনায় ৭০ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ রুশ ও আন্তর্জাতিক কর্মকর্তা অংশ নেন। মূল কর্মসূচির পাশাপাশি ১৫০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় এবং ২০০টিরও বেশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিষয়ক বৈশ্বিক নীতিমালা, ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব, অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা, এআই-এর নৈতিকতা, স্মার্ট সিটি, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল শিক্ষা এবং গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ। এই ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকসহ ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। আয়োজকরা সকল প্রতিনিধির বিমান ভাড়া, আবাসন ও ভিসা সংক্রান্ত খরচের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে ছিলেন—মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন মুন্না, অঞ্জন চন্দ্র দাস, মোহাম্মদ সাবের শাহ, মো. শাহরিয়ার আজাদ ইভান, জান্নাতুল ফেরদৌস লুফিন, জান্নাতুল মাওয়া মিম, রাশেদুল হক, খান মোহাম্মদ নাকিব, রাহাত উদ্দিন, মো. আব্দুর রশিদ সোহাগ, মামুন শেখ, মো. এনামুল হক, গোলাম কিবরিয়া, মো. আবু বকর সিদ্দিক, মো. সাদ্দাম হোসেন রনি, এসএম শোজিবুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফয়সাল আকবর, মাজাদুর রহমান রবিন এবং আমজাদ হোসেন শামীম।
এই কর্মসূচিতে বক্তা হিসেবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারীরাও অবদান রেখেছেন। ৮ অক্টোবর, ডায়ানাহোস্ট (DianaHost)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) খান মোহাম্মদ নাকিব ‘দ্য ভ্যালু অফ আ নেম: ডোমেইন অ্যাজ আ ডিজিটাল অ্যাসেট’ (নামের গুরুত্ব: ডিজিটাল সম্পদ হিসেবে ডোমেইন) শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য রাখেন। একই দিনে, ‘টক হোপ ইন্টিগ্রেটেড মডেল’ (THIM)-এর স্বতন্ত্র গবেষক ও ডেভেলপার মো. সাদ্দাম হোসেন রনি ‘হিউম্যানস নিড হিউম্যানস: ট্রাস্ট ইন মিডিয়া ইন দ্য এজ অফ এআই’ (মানুষের প্রয়োজন মানুষ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে গণমাধ্যমের ওপর আস্থা) বিষয়ক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন।
এছাড়াও এই ফোরামে বাংলাদেশের বিশিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব ফকির মাহবুব আনাম (এমপি); মস্কোতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ দূতাবাসের মাননীয় রাষ্ট্রদূত জনাব মো. নজরুল ইসলাম; এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব জনাব মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমান।
বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর তরুণ উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং বিশ্বব্যাপী আলোচনায় নিজেদের মতামত তুলে ধরার সুযোগ লাভ। এই ফোরাম চলাকালে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় রাশিয়ার বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।
প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, এই চুক্তিগুলো প্রযুক্তি, শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতার নতুন পথ উন্মোচন করবে।


