নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আদলতের স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় রাজধানীর মিরপুরের চটবাড়ী মৌজায় প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের মালিকানাধীন ৩৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও স্বাক্ষরিত এক লিখিত অভিযোগে এ দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, আদালতের আদেশ এবং পুলিশের ভূমিকা তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, মিরপুরের চটবাড়ী মৌজার ৬৮০৪ ও ৬৬০৩ নম্বর দাগের ৩৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি ২০১৬ সালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে নামজারি ও খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে ভোগদখল করে আসছে প্রাইম ইসলামী লাইফ। ২০২০ সাল থেকে ওই সম্পত্তির একটি অংশ ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মো. আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুলের নেতৃত্বে আক্তার জাহান (রাইসা সুলতানা) গং ওই সম্পত্তি নিয়ে প্রাইম ইসলামী লাইফের বিরুদ্ধে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারায় মামলা করেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের কোনো সমন বা নোটিশ না দিয়েই আদালত একতরফা আদেশ দেন।
কোম্পানীর পক্ষ থেকে মহানগর দায়রা আদালতে ফৌজদারি রিভিশন মামলা করা হয়। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট বিভাগেও মামলা করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে রুল জারি করে পরবর্তী আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আদালতের আদেশ সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।
তবে অভিযোগে বলা হয়েছে, আদালতের রুল ও স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় গত ১ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আক্তার জাহান (রাইসা সুলতানা) গং কোম্পানির জমির একটি অংশ জোরপূর্বক ঘেরাও করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ৬ আগস্ট অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
এরপর গত ১৯ সেপ্টেম্বর মো. আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুলসহ কয়েকজন লোক কোম্পানির ভাড়াটিয়ার শেডে প্রবেশ করে এবং পরবর্তী সময়ে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর আক্তার জাহান (রাইসা সুলতানা) গংয়ের পক্ষের ৫০-৬০ জন লোক নির্মাণসামগ্রী নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করে এবং জোরপূর্বক স্থায়ী দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করে। বিষয়টি মিরপুরের শাহআলী থানা পুলিশকে জানানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ।
প্রাইম ইসলামী লাইফের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি বৈধভাবে ওই ৩৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছে এবং মালিকানার পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র, নামজারি ও খাজনার রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে।
অভিযোগে মো. আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুলের বিরুদ্ধে ওই সম্পত্তিতে হঠাৎ দাবি উত্থাপনের অভিযোগও করা হয়েছে। তাকে স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের কাছে দলিলপত্র ও আদালতের আদেশ পর্যালোচনা করে ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনা এবং পুলিশের ভূমিকা অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত এসব বক্তব্যের বিষয়ে অভিযুক্ত আক্তার জাহান (রাইসা সুলতানা), মো. আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুল এবং শাহআলী থানা পুলিশের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।


