রুপসীবাংলা৭১ অন্যান্য ডেস্ক : বর্তমান সময়ে কোরবানির পশু ও দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে গরু মোটাতাজাকরণ একটি পরিচিত পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের অংশ হিসেবে সরকার কর্তৃকও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক খাদ্য ফর্মুলা প্রদান করা হয়।
এর মধ্যে অন্যতম হলো ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র (UMS) বা ইউরিয়া মিশ্রিত খাদ্য। বহু বছর ধরে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলো বলছে—নির্ধারিত মাত্রায় ইউরিয়া ব্যবহার করলে তা পশুর স্বাস্থ্য কিংবা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।
ইউরিয়া মূলত নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ একটি উপাদান, যা সঠিক পরিমাণে ও নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে খড়, ভুসি ও মোলাসেসের সাথে মিশিয়ে গরুকে খাওয়ানো হয়। এটি গরুর পাকস্থলীতে থাকা অণুজীবের মাধ্যমে প্রোটিনে রূপান্তরিত হয় এবং পশুর পুষ্টি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, ইউরিয়া সরাসরি খাদ্য নয়; বরং পশুর খাদ্য প্রক্রিয়ার একটি উপাদান মাত্র। তাই এর শরয়ি হুকুম নির্ভর করবে এর চূড়ান্ত প্রভাবের উপর। কেননা শরীয়তের মূলনীতি ‘যা মানুষের ক্ষতির কারণ ও প্রভাবক হয়, তা নিষিদ্ধ।’ মহানবী (সা.) বলেন, ‘ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির প্রতিদানও ক্ষতির মাধ্যমে দেয়া যাবে না।’(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ১৯০৯)
তাই যদি কোনো খাদ্য বা পদ্ধতি মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়, তাহলে তা ব্যবহার করা জায়েজ হবে না। কিন্তু যদি বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞদের মতে নির্ধারিত পরিমাণে ইউরিয়া ব্যবহারে পশু বা মানুষের কোনো ক্ষতি না হয়, তাহলে মূলত তা বৈধতার মধ্যেই থাকবে। আর যদি কোনো প্রাণীর খাদ্যের কারণে তার গোশত, দুধ বা শরীরে দুর্গন্ধ ও অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়,কিংবা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়,তাহলে এভাবে গরু মোটাতাজা করা জায়েজ হবে না। খাওয়াও মাকরূহ। কিন্তু যদি কোনো পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে তা মাকরূহ নয়।
এ প্রসঙ্গে ফোকাহায়ে কেরাম একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ উল্লেখ করেছেন, তা হলো-এমন ছাগলছানা, যা শূকরের দুধ পান করে বড় হয়েছে, সেটির গোশত খাওয়া মাকরূহ নয়। কারণ তার মাংসে কোনো পরিবর্তন বা দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় না। এক্ষেত্রে অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা দ্রুত মোটা দেখানোর জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক, স্টেরয়েড বা ইনজেকশন ব্যবহার করে। এতে পশু অসুস্থ হয় এবং মানুষের স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণামূলক মোটাতাজাকরণও শরীয়তসম্মত নয়। (বাদায়ে সানায়ে, খন্ড : ৪, পৃষ্ঠা-১৫৪, মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুইতিয়্যাহ, খন্ড : ৫, পৃষ্ঠা : ১৪৯, তাবিয়িনুল হাক্বাইক, খন্ড : ৭,পৃষ্ঠা-২৪, রাদ্দুল মুহতার, খন্ড : ৯, পৃষ্ঠা-৪৯১, আল-মাবসুত , খন্ড : ১১, পৃষ্ঠা-২৫৫)
রুপসীবাংলা৭১/এআর

