রুপসীবাংলা ৭১ঃ পাকিস্তানের শোষন শাসন থেকে মুক্তির লক্ষে বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৯৭০ সনে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে জয় লাভ করেন। কিন্তু তৎকালীন পাকিস্তানী সামরিক শাসক জান্তারা নির্বাচন নিয়মনীতি না মেনে ১৯৭১ সনের ২৫ কালো রাতে বাঙালি নিরস্ত্র জনগণের উপর সশস্ত্রভাবে ঝাপিয়ে পড়ে এবং ২৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের সূচনা পাক হানাদার বাহিনীর হামলায় নিহত লক্ষ লক্ষ জনগণের স্মরণে সমাবেশ ২৫ মার্চ ২০২৬ সকাল ১১ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাব চত্ত্বরে বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও চেয়ারম্যান বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল।
বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সমন্বয়ক ও জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম এ জলিল, শ্রমিক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন পার্টির সভাপতি সৈয়দ মোখলেছুর রহমান, বরিশাল বিভাগ সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ স ম মোস্তফা কামাল, নারী নেত্রী এলিজা রহমান, শ্রমিক নেতা হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, ১৯৭০ সালে নির্বাচনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। কিন্তু পাকিস্তান বর্বর বাহিনী অস্ত্রের জোড়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাত্রে বাঙালি নিরীহ জনগণের উপরে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। এই হামলার প্রতিবাদে এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষনা দেন। কিন্তু দেখা গেল এই হামলায় লক্ষ লক্ষ বাঙালিদেরকে পাতিস্তান বর্বর বাহিনী হত্যা করে। এই ২৫ তারিখ কেই আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করার জন্য জাতি সংঘের কাছে আহ্বান জানাচ্ছেন আজকের সভার সভাপতি। এই হামলার প্রতিবাদ করেছেন মহান ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি মিসেস ইন্দিরা গান্ধী, ভারতের জনগণ ও সরকার। আমরা ভারতের জনগণ সরকার ও তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে কৃতজ্ঞ। আজকের এই দিনে এই সভা থেকে আমাদের শপথ হোক আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঐক্য চাই, স্বাধীনতার স্বপ্ন মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচারের পক্ষে ন্যায়বিচার আজ পর্যন্ত করতে পারি নাই। সেই কারনেই ২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন হয়েছে। আমরা বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে একত্রিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও ২৪ এর বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ধারণ করে ৩০ লক্ষ শহীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ৫ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই দেশকে সন্ত্রাস জঙ্গীবাদ দুর্নীতি ঘুষ মাদক মুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ক্ষুধা দারিদ্রের দেশ গড়তে চাই।

