ব্রেকিং নিউজ ১: প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে বারবার ত্রুটি, কারণ জানতে চায় সংসদীয় কমিটি   |   ব্রেকিং নিউজ ২: আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতে নামিবিয়ার ইতিহাস   |   ব্রেকিং নিউজ ৩: শিক্ষক নিয়োগে ১৮ রায় জালিয়াতি : তদন্ত কমিটি গঠন করলেন আপিল বিভাগ

রেল সংস্কার হবে-নাকি সিন্ডিকেটের কাছে আবারও পরাজয়? মনিরুজ্জামান মনির –

RelatedPosts

নিজস্ব প্রতিনিধি //

বাংলাদেশ রেলওয়ে নিয়ে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা এবং সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সুবিধাবাদ হলো—রেলকে বছরের পর বছর “লোকসানী প্রতিষ্ঠান” হিসেবে চিহ্নিত করা, তারপর সেই তকমাকেই রেলের ব্যর্থতার একমাত্র ব্যাখ্যা হিসেবে দাঁড় করানো। বাস্তবে রেল লোকসানী হওয়ার কথা নয়। রেল লোকসানী হয়েছে কারণ তাকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছে, ক্ষমতাহীন রাখা হয়েছে এবং সবচেয়ে ভয়াবহভাবে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির হাতে বন্দী করে রাখা হয়েছে।

রেল কোনো সাধারণ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়। রেল হচ্ছে রাষ্ট্রের কৌশলগত অবকাঠামো, জাতীয় সংযোগের মেরুদণ্ড, বন্দর-শিল্প-ব্যবসা নির্ভর অর্থনীতির চালিকা শক্তি এবং নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনের প্রধান মাধ্যম। অথচ বাংলাদেশে রেলকে এমনভাবে পরিচালনা করা হয়েছে যেন এটি রাষ্ট্রের বোঝা। সড়ককে অগ্রাধিকার দিয়ে রেলকে পিছনে ঠেলে দেওয়ার যে নীতি গত কয়েক দশকে দৃশ্যমান হয়েছে, তা কেবল ভুল নীতি নয়; এটি রাষ্ট্রীয় পরিবহন পরিকল্পনার ব্যর্থতা। এর ফল এখন চোখের সামনে: জ্বালানি অপচয়, সড়ক অবকাঠামোর দ্রুত ক্ষয়, যানজট, দুর্ঘটনা, মাল পরিবহনে অস্বাভাবিক ব্যয় এবং বন্দরনির্ভর অর্থনীতিতে লজিস্টিক ব্যর্থতা। এসব ব্যর্থতার দায় কোনো একক মন্ত্রণালয় বা কোনো একক ব্যক্তির নয়—এটি একটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা।

এই বাস্তবতায় রাজধানীর রেল ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি যে ঘোষণা দিয়েছেন “সরকার আর বাংলাদেশ রেলওয়েকে লোকসানী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায় না” এটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রেলকে ঢেলে সাজিয়ে লাভজনক ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো—তিনি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচলের সময় কমিয়ে আনার উপায় এক সপ্তাহের মধ্যে নির্ধারণের নির্দেশও দিয়েছেন।

কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতায় একটি প্রশ্ন অনিবার্যভাবে উঠে আসে—এবার কি সত্যিই রেল সংস্কার হবে, নাকি সিন্ডিকেটের কাছে আবারও পরাজয় হবে? কারণ আমরা অতীতেও দেখেছি: সভা হয়েছে, ঘোষণা এসেছে, পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে—কিন্তু বাস্তবে সিন্ডিকেট টিকে থেকেছে, কালোবাজারি বহাল থেকেছে, নিয়োগ-দুর্নীতি অব্যাহত থেকেছে, জমি দখল আরও বেড়েছে এবং রেল ধীরে ধীরে আরও দুর্বল হয়েছে। অতএব, এবার রেল সংস্কার যদি সত্যিই বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে এটিকে “প্রকল্প” হিসেবে নয়—রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠন কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আর এই পুনর্গঠনের প্রথম শর্ত হলো—রেলের ভেতরে ও বাইরে থাকা স্বার্থান্বেষী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান।

রেলকে লোকসানী বলার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে ঠকানো হয়েছেঃ বাংলাদেশে রেলকে লোকসানী বলা হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন রেলকে নীতিগতভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, আগে রেলকে অবহেলা করা হলো, তারপর সেই অবহেলার ফলকে “লোকসান” বলে উপস্থাপন করা হলো। এটি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় প্রতারণা। রেল যখন যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করে, তখন সে শুধু ভাড়া আয় করে না; সে জাতীয় অর্থনীতিকে বহুমুখী লাভ দেয়। রেল সড়কের ওপর চাপ কমায়, জ্বালানি সাশ্রয় করে, দুর্ঘটনা কমায়, বন্দর-শিল্পাঞ্চলে পণ্য পরিবহন দ্রুত করে, পরিবেশ দূষণ কমায়, শ্রমবাজারের গতিশীলতা বাড়ায় এবং অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য কমায়। অতএব রেলকে লোকসানী বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। রেলকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে পুনর্গঠন করতে হবে। আর সেই পুনর্গঠন না হলে, লোকসানের ক্ষতি শুধু রেলের নয়—ক্ষতি হবে রাষ্ট্রের।

রেলের সংকট: সমস্যার উৎস পাঁচটি স্তরেঃ বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান সংকটকে পাঁচটি স্তরে বিশ্লেষণ করা যায়—
১) ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও কাঠামোগত অকার্যকারিতাঃ বাংলাদেশ রেলওয়ে মহাপরিচালক প্রশাসনিকভাবে পূর্ণ ক্ষমতাবান নন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত মন্ত্রণালয় নির্ভরতা আছে। ফলে অপারেশনাল সিদ্ধà¦