রুপসীবাংলা৭১ প্রতিবেদক : সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৪ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন দিবস পালন করা হয়ে থাকে। তবে এবারের ২৬ তম সুন্দরবন দিবসটি ‘প্লাস্টিকমুক্ত সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা’– এই আহ্বানে পালিত হয়েছে।
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি এ সুন্দরবন এ দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে মাতৃস্নেহে আগলে রেখেছে। জলবায়ু পরিবর্তনগত কারণে আঘাত হানা ঝড়-ঝঞ্ঝা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিক্ষয় রোধসহ সব প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুন্দরবন আমাদের রক্ষা করে আসছে।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন বা লবণাক্ত বনাঞ্চল সুন্দরবন। বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম প্রশস্ত বনভূমি এটি। সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন।
২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আওতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রূপান্তর ও পরশের উদ্যোগে এবং দেশের আরও ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের অংশগ্রহণে প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ ঘোষণা করা হয়।
সুন্দরবন দিবসের মূল উদ্দেশ্য:
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উর্ধ্বগতির প্রভাব থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করা।
স্থানীয় সম্প্রদায়ের জীবিকা এবং সুন্দরবনের উপর তাদের নির্ভরশীলতা সম্পর্কে শিক্ষা প্রদান।
অবৈধ শিকার, বন উজাড় ও পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির প্রচারণা চালানো।
এদিকে বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। সুন্দরবনে ৫২৮ প্রজাতির উদ্ভিদ ও ৫০৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বাস। এর মধ্যে রয়েছে ৪৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৮৭ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী ও ৩৫৫ প্রজাতির পাখি।
প্রসঙ্গত, জীববৈচিত্র্যের প্রাচুর্যের জন্য ১৯৯২ সালে সুন্দরবনকে রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আর ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেসকো সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে।
রুপসীবাংলা৭১/এআর

