নিজস্ব প্রতিনিধি : আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, দেশের বিভিন্ন পাবলিক, প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয়, কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মব সন্ত্রাস, হেনস্থা, অপমান, চাকরীচ্যুতির শিকার হচ্ছেন। মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে তাঁরা কখনও প্রকাশ্য আক্রমণ এবং কখনও কখনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চাকরীচ্যুতির শিকার হচ্ছেন যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও একইসাথে উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এইসকল ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে কওে, এ ঘটনাগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য ঘটানো হচ্ছে। একের পর এক এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে এ বিষয়গুলো রাজনৈতিক এবং যা সমাজে ভীতি উদ্রেগকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। এর ফলে শিক্ষক- শিক্ষার্থী সম্পর্ক ভয়, অবিশ্বাস ও আস্থাহনিতার দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা কিনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি সুস্থ পরিবেশকে নষ্ট করছে। এই বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ না নিলে এবং মব সহিংসতা বন্ধ করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, শিক্ষা ব্যবস্থা ভেড়ে পড়তে পারে। কারণ ইতোপূর্বে সংঘটিত এধরনের শিক্ষক হেনস্তার ঘটনাকে বিচারের আওতায় না আনার ফলে এই ধরনের ঘটনা উত্তরোত্তর বেড়ে চলছে। এই ধরনের ঘটনা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক ।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বা চাপের মুখে যদি শিক্ষকদের পেশাগত নিরাপত্তা বিনষ্ট হয় তবে তা সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সমগ্র জাতির জন্য একটি অশনিসংকেত।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই সকল ঘটনার পুনরাবৃত্তিরোধে বিশ^বিদ্যালয় সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এইসকল ঘটনাসমূহের সাথে জড়িত ব্যক্তি এবং এদের মদদদাতাদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবী জানাচ্ছে, একই সাথে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইন, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার আহŸান জানাচ্ছে।

