নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ১২ জানুয়ারি ২০২৬, সোমবার, চট্টগ্রামের ষোলশহর রেলস্টেশন প্রাঙ্গণ।
মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলন চট্টগ্রামের উদ্যোগে আজ ১২ জানুয়ারি ২০২৬, সোমবার, চট্টগ্রামের ষোলশহর রেলস্টেশন প্রাঙ্গণে হাইকোর্ট মাজার নামে প্রসিদ্ধ, হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর সফরসঙ্গী হিসেবে খ্যাত, বিখ্যাত সুফিসাধক হজরত শরফুদ্দিন চিশতি (রহ.)-এঁর পবিত্র উরস শরিফে হামলার প্রতিবাদে প্রতিবাদ-সমাবেশ ও উরস শরিফ সম্পন্ন হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে গত ১০ই জানুয়ারিতে সংঘটিত হাইকোর্ট মাজারে উরস পালনে পুলিশি বাধা ও ধর্মীয় উগ্রগোষ্ঠীর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বাদে আসর থেকে রাত দশটা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। এতে মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলনের আহ্বায়ক মুহাম্মদ সৈয়দুল হকের সভাপতিত্বে খতমে কুরআন, খতমে খাজেগান, মিলাদ-কিয়াম, মানববন্ধন এবং কাওয়ালি মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ভক্ত, হাফেজে কুরআন, ফকির এবং সুফি অনুসারী-সহ সর্বস্তরের জনগণ। বাদে মাগরিব খতমে কুরআন ও খতমে খাজেগানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর বাদে এশা মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সুফি ঐতিহ্য রক্ষার দাবি তোলেন। রাত ৮:৩০ মিনিটে কাউয়ালি মাহফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উৎসাহ ও সংহতির পরিবেশ বিরাজ করে।

মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক সৈয়দুল হক বলেন, “বাংলার মাটিতে সুফি ও আওলিয়ায়ে কেরামের মাধ্যমে তাওহিদ, সাম্য ও ইনসাফের বাণী প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর দ্বারা ১৫০টিরও বেশি মাজারে হামলা এবং বিভিন্ন জায়গায় উরস পালনে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। গত দুদিন আগে হাইকোর্ট মাজারে উরস পালনে বাধার সাম্প্রতিক ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পুনরায় মহাসমারোহে উরস পালনের নিশ্চয়তার দাবি জানাচ্ছি।”
মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলন চট্টগ্রামের সদস্য সচিব মুনতাসির মাহমুদ বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে সুফি সম্প্রদায়ের প্রতি অবজ্ঞা ও অবহেলা অসহনীয়। এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ। আমরা মাজার হামলা ও উরসে বাধার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক ও অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক জোবায়ের আরিফ সংহতি জানানোর উদ্দেশ্যে উপস্থিত হয়ে বলেন, “মাজারে হামলা ও উরসে বাধা নির্বাচনসহ সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরিতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বিরোধী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধর্মীয় সহাবস্থান, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে হবে।”
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুসলিম সংস্কৃতি আন্দোলন, চট্টগ্রাম’র সদস্য রকিবুল ইসলাম রাকিব। চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিকবৃন্দ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিবর্গ প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন এবং হামলার বিচার ও সুষ্ঠু তদন্তের প্রত্যাশা জ্ঞাপন করেন।

