প্রিয়ন্ত মন্ডল : আজ পথের ধারে দাঁড়িয়ে
আমি দেখেছি রাষ্ট্রের বিবেক—
শীতে কাঁপতে থাকা
একটি নগ্ন ভবিষ্যৎ।
নাম তার—ছোট্ট সোনামণি।
গায়ে নেই বস্ত্র,
চোখে নেই স্বপ্ন,
ঠোঁটে কাঁপন—
আর সভ্যতার বুকে
অসহায় নীরবতা।
হে মানবতার ফেরিওয়ালা, তুমি কোথায়?
তুমি কি অন্ধ,
নাকি ইচ্ছাকৃত অদৃশ্য এই কান্না?
মঞ্চে দাঁড়িয়ে মানবতার সংজ্ঞা দাও,
কিন্তু পথে নামলে
তোমার মানবতা খসে পড়ে।
তোমারও আছে এক শিশুখানা,
শীতের রাতে যে কাঁদে না,
কারণ তার আছে উষ্ণতা, নিরাপত্তা।
তবু কেন অন্য শিশুর কান্না
তোমার কাছে শুধু পরিসংখ্যান?
তুমি বলো—
আমি দানবীর,
আমি মানবিক,
আমায় সম্মান দাও।
কিন্তু মানবতা কি
প্রচারপত্রে ছাপা যায়?
নাকি পদকের ওজনে
কান্না চেপে রাখা যায়?
তোমার অন্তরে খুঁজি মানুষ—
পাই শুধু শূন্যতা,
পাই মুখোশের মিছিল।
মানবতার নামে
এ এক নির্লজ্জ বাণিজ্য।
মুখোশধারী মানবতার ফেরিওয়ালা,
ভুলে যেয়ো না—
এক অন্তর্যামী আছে,
সে কোনো মঞ্চে দাঁড়ায় না,
সে প্রশ্ন করে নিরবে।
একবার ভেবে দেখো—
যদি স্থান বদল হতো,
যদি পথের ধারে
তোমারই সন্তান কাঁদত,
তবে কি মানবতা থাকত
শুধু বক্তৃতায়?
আজ এই শীতল পথে
একটি শিশুর কান্না
সভ্যতার বিরুদ্ধে
এক অগ্নি-অভিযোগ।
আর আমরা—
অভিযুক্ত মানুষ।
