রুপসীবাংলা৭১ তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : মানুষ একদিন মঙ্গলে বসবাস করবে—এমন স্বপ্ন বিজ্ঞানীদের অনেক দিনের। যদিও সেটি এখনো বাস্তব হয়নি, তবে সেই লক্ষ্যের পথে আরেক ধাপ এগোলেন গবেষকেরা। বিজ্ঞানীরা মঙ্গলে একটি সম্ভাবনাময় অবতরণস্থল চিহ্নিত করেছেন, যা ভবিষ্যতে মানব অভিযানের জন্য সহায়ক হতে পারে।
সায়েন্স ডেইলির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলের এই সম্ভাব্য অবতরণস্থলের নাম অ্যামাজোনিস প্লানিশিয়া। এটি গ্রহটির মধ্য-অক্ষাংশ এলাকায় অবস্থিত। এই অঞ্চলটির বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে পর্যাপ্ত সূর্যালোক, তুলনামূলক নিরাপদ সমতল ভূমি এবং ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি বরফের উপস্থিতি একসঙ্গে পাওয়া যায়।
গবেষকদের মতে, মধ্য-অক্ষাংশ অঞ্চলে সূর্যের আলো ও তাপমাত্রার মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকে। এতে করে বরফ সহজে গলে যায় না এবং মাটির খুব কাছেই সংরক্ষিত থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, এখানে এক মিটারেরও কম গভীরে বরফের স্তর রয়েছে। এই বরফ ভবিষ্যতে পানীয় জল, শ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন এবং জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে (যাকে বলা হয় ইন-সিটু রিসোর্স ইউটিলাইজেশন—স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে প্রয়োজন মেটানো)।
মিসিসিপি মিনারেল রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের গ্রহ-ভূতত্ত্ববিদ এরিকা লুজ্জি জানান, এই অঞ্চলটি তুলনামূলক সমতল হওয়ায় এখানে নিরাপদে অবতরণ করা সম্ভব। পাশাপাশি সূর্যালোক যথেষ্ট থাকায় সৌরশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনও সহজ হবে।
গবেষণার সহলেখক এবং ইতালিয়ান স্পেস এজেন্সির বিজ্ঞানী জিয়াকোমো নোদজুমি বলেন, চাঁদের ক্ষেত্রে পৃথিবী থেকে দ্রুত সহায়তা নেওয়া সম্ভব হলেও মঙ্গলের জন্য তা মাসের পর মাস সময় নিতে পারে। তাই মঙ্গলে টিকে থাকার জন্য পানি ও অক্সিজেনের মতো মৌলিক সম্পদ সেখানে থাকা অত্যন্ত জরুরি।
বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, বরফের উপস্থিতি মঙ্গলে অতীতের জীবনের চিহ্ন (বায়োমার্কার—প্রাচীন জীবনের রাসায়নিক চিহ্ন) খুঁজে পেতেও সহায়তা করতে পারে। এ কারণেই অ্যামাজোনিস প্লানিশিয়াকে ভবিষ্যৎ মঙ্গল অভিযানের জন্য একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক স্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রুপসীবাংলা৭১/এআর

