বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম একটি অপরিহার্য স্তম্ভ। সেই প্রেক্ষাপটে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি সংবাদপত্র—প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার–এর উপর সাম্প্রতিক হামলা ও হুমকির ঘটনা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা শুধু নির্দিষ্ট কোনো গণমাধ্যমের ওপর আঘাত নয়, বরং তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে।
সংবাদপত্রের কাজ হলো সত্য তুলে ধরা, ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ করা। সেই দায়িত্ব পালনের কারণে যদি কোনো সংবাদমাধ্যম হামলার শিকার হয়, তাহলে তা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন কিংবা চাপ সৃষ্টি করে সংবাদকণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, মানবাধিকার, দুর্নীতি ও সামাজিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকা রেখে আসছে। এ কারণেই হয়তো কোনো কোনো মহল তাদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। কিন্তু ভিন্নমতকে দমন করার এই প্রবণতা রাষ্ট্র ও সমাজ—উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সংবাদমাধ্যমকে চাপে রাখার ফল কখনোই ইতিবাচক হয় না।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা। হামলার ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি। দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক সকল পক্ষের উচিত সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন করা।
গণতন্ত্র শুধু নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি টিকে থাকে মতের বহুত্ব, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও প্রশ্ন করার অধিকার নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে। সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা মানে সেই ভিত্তিকেই নড়িয়ে দেওয়া। তাই এই মুহূর্তে প্রয়োজন দৃঢ় অবস্থান—সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে, সহিংসতার বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে।
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম কোনো শত্রু নয়; বরং তা একটি রাষ্ট্রের বিবেক। সেই বিবেককে আঘাত করলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো জাতিই।

