রুপসীবাংলা৭১ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পূর্ব আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউয়ের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগেই প্রেসিডেন্ট উমারো সিসোকো এম্বালোকে গ্রেপ্তার করে ক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (২৬ নভেম্বর) সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের একটি দল ঘোষণা দেয় দেশের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ তাদের হাতে রয়েছে। তারা টেলিভিশনে এক লিখিত বিবৃতিতে নিজেদের ‘উচ্চ সামরিক কমান্ড’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।
সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানকারী দলটির কর্মকর্তারা বলেন, গত রবিবার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণার কথা থাকলেও এখন তারা পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াই স্থগিত করেছেন।
তাদের দাবি, অজ্ঞাত কয়েকজন রাজনীতিক এবং তাদের পেছনে থাকা ‘একজন পরিচিত মাদক চোরাকারবারির’ সহায়তায় দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছিল, আর এটি ঠেকাতেই তারা হস্তক্ষেপ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামরিক ইউনিটের প্রধান জেনারেল ডেনিস এন’কানহা রাষ্ট্রীয় টিভিতে হাজির হয়ে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সেনারা ‘শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় উচ্চ সামরিক কমান্ড’ গঠন করেছে এবং জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
সেনারা দেশের সব সীমান্ত বন্ধ করার পাশাপাশি রাত্রিকালীন কারফিউও জারি করেছে। অভ্যুত্থানের পর পুরো বিসাউয়ে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং এতে করে সন্ধ্যা ৭টার আগে থেকেই শহর কার্যত ফাঁকা হয়ে যায়।
গত রবিবার গিনি-বিসাউয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। এতে প্রেসিডেন্ট উমারো সিসোকো এমবালো এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফার্নান্দো দিয়াসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। তারা দুজনই নিজেদের বিজয় দাবি করেছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার এ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করেছে।
প্রেসিডেন্ট উমারো টেলিফোনে বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, “আমাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ হেডকোয়ার্টারে আছি।”
সরকারি সূত্র পরে বিবিসিকে জানায়, সেনারা প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফার্নান্দো দিয়াস, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ডোমিঙ্গোস পেরেইরা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বটশে কান্ডেকেও আটক করেছে। একই সঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল বিআগে না এনটান এবং তার ডেপুটি জেনারেল মামাদু টুরেকেও আটক করা হয়েছে।
৫৩ বছর বয়সী উমারো দেশটির ইতিহাসে টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস তৈরি করতে চেয়েছিলেন। যদিও তিনি প্রথমে বলেছিলেন যে, তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচন করবেন না। বিলম্বিত নির্বাচনের আগে, তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। বিরোধীরা অভিযোগ করেছিল, তার মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়া উচিত ছিল। বিতর্কিত এ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলকে নির্বাচন করতে দেওয়া হয়নি।
সেনা অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ডের প্রধান ডেনিস এন’কানহা। প্রেসিডেন্টকে নিরাপত্তার দেওয়ার দায়িত্বে থাকা এই সেনা কর্মকর্তাই এখন প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তার করেছেন।
সেনেগাল ও গিনির মাঝখানে অবস্থিত গিনি-বিসাউ ১৯৭৪ সালে পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ এবং মাদক চোরাচালানের জন্য পরিচিত। স্বাধীনতার পর দেশটিতে অভ্যুত্থান ও অভ্যুত্থানচেষ্টা হয়েছে অন্তত ৯ বার।
সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনায় পর্তুগাল দ্রুত সাংবিধানিক শাসন ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে এবং সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকতেও আহ্বান জানিয়েছে।
গিনি-বিসাউ বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি এবং এর জনসংখ্যা ২০ লাখের বেশি। জাতিসংঘ ইতোমধ্যেই দেশকে ‘নারকো-স্টেট’ বলে আখ্যা দিয়েছে, কারণ দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপে কোকেন পাচারের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে দেশটি।
রুপসীবাংলা৭১

